সিলেটের এক প্রধান শিক্ষিকার সাধারণ একটি শাড়ি পরা ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসিত ট্রোলিং ও সাইবার বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে সেই সমালোচনার বিপরীতে দমে না গিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ গড়ে তুলেছেন এক অভূতপূর্ব ও অভিনব প্রতিবাদ। চার দশক আগের কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ এখন শিক্ষকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সংহতির প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। গত ২৩ জুলাই নীল রঙের শাড়ি পরে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও ফেইসবুকে পোস্ট করেন তিনি, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল আশির দশকের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’। কিন্তু ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে কিছু মানুষের অযাচিত সমালোচনা ও ‘ট্রোলের’ শিকার হতে হয় সিলেটের এই শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকাকে।
এই ঘটনার পর বিউটি রাণীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষক। প্রত্যেকেই নিজেদের ভিডিওতে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি যুক্ত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করছেন এবং বিউটি পালের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছেন।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা মজুমদার একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে ঝাড়ু হাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একই গানের তালে নাচতে দেখা যায়। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “সিলেটের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের সুন্দর ভিডিও যাদের ভালো লাগেনি, তাদের জন্য নতুন সংশোধিত সংস্করণ।”
একইভাবে গাজীপুরের সহকারী শিক্ষক লক্ষ্মী সুত্রধর, রংপুরের তিশা সেন, বগুড়ার মরিয়ম মুনতাসিম এবং বরিশালের শিউলি রানীও একই গানের সাথে নিজস্ব ভিডিও শেয়ার করে ট্রোলাদের কড়া জবাব দিয়েছেন। বরিশালের শিক্ষিকা শিউলি রানী ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে লেখেন, “যাদের এখনও ধারণা শিক্ষক মানে গম্ভীর চেহারা আর বেত হাতে চোখ রাঙানি, তাদের বলছি—আমরা শিশুদের নাচ-গান শেখাবো কিন্তু নিজেরা ভিডিও দিতে পারবো না, এটা হতে পারে না। আমরা শিক্ষক, মানুষও।”
শিক্ষক সমাজের এই অভিনব এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ফেইসবুক ও টিকটকে এক নতুন ট্রেন্ড তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরাও শিক্ষকদের এই স্বাধীনচেতা ও ইতিবাচক প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
