জুলাই কে কেন্দ্র করে চলছে রমরমা ব্যবসা । অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে সস্তা ভিউ কামানো, নিজেদের লাইমলাইটে আনা এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার এই নগ্ন প্রতিযোগিতায় বিচার প্রক্রিয়াই এখন চরম প্রশ্নের মুখে ।
এই জুলাই বাণিজ্যেকে আরও বেশি তরান্বিত করতে এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ২৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৬ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামের রাতারাতি গজিয়ে ওঠা এক সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এই লিখিত অভিযোগপত্র হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বেশ আয়োজনের সাথেই এই তালিকার ফাইল জমা দেন।
অভিযোগের নামে তৈরি করা সেই দীর্ঘ তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হয়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একঝাঁক পরিচিত ও আলোচিত নামকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, অরুণা বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, শমী কায়সার, তানভীন সুইটি, হৃদ হৃদি হক, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, সাজু খাদেম, হিরো আলম, সুজাতা আজিম, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদী, সোমা ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
তবে সচেতন মহল ও আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই বিপ্লব ও হত্যাযজ্ঞের প্রকৃত সুবিচারের পথ থেকে নজর সরিয়ে এখন ‘ভিউ বাণিজ্য’ ও ‘সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাটেনশন’ পাওয়ার এক অসুস্থ দৌড় শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বেনামী প্যাড ও ভুঁইফোড় ব্যানারে ডজন ডজন নাম নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কিংবা থানায় হাজির হচ্ছেন এক শ্রেণীর লোক। উদ্দেশ্য—আন্দোলনের আবেগ বিক্রি করে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানো এবং ফেসবুক-ইউটিউবে ভিউ কুড়ানো।
সাধারণ জনগণ ও বিশিষ্টজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সত্যিকারের অপরাধীদের বিচারে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেয়ে এখন ‘জুলাই কার্ড’ খেলে কে কত বড় তালিকা জমা দিয়ে টিভিতে চেহারা দেখাতে পারে—সেই ব্যবসাতেই মেতে উঠেছে এসব গোষ্ঠী। এভাবে বিচারিক প্রক্রিয়াকে তামাশায় পরিণত করার কারণে সত্যিকারের শহীদ পরিবারের বিচার পাওয়ার স্বপ্ন যেমন নস্যাৎ হতে চলেছে, তেমনি জুলাইয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকেও এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী সস্তা বাণিজ্যে পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, জমা পড়া যেকোনো অভিযোগই তারা আইনের নিয়ম অনুযায়ী খতিয়ে দেখেন। তবে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ফায়দা তোলা বা লাইমলাইটে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে ফাঁকা অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালের সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের সচেতন নাগরি সমাজ।
