মো. আসাদুল আলম, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর অধ্যাপক ড. এম. শামীম কায়সার বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফিজিক্যাল সায়েন্সেস ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন।
এ অর্জনে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এক পত্রে ড. শামীম কায়সারের স্বর্ণপদক প্রাপ্তির বিষয়টি জানানো হয়।
ড. শামীম কায়সার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্স, ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড স্মার্ট ট্রান্সফরমেশন গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও স্মার্ট হেলথকেয়ার তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র। এ পর্যন্ত তিনি ৩৫০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ, বই ও বইয়ের অধ্যায় প্রকাশ করেছেন। এছাড়া একাধিক আন্তর্জাতিক ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। Research.com-এর র্যাংকিংয়ে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশের সেরা কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
একই সঙ্গে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে স্থান পেয়েছেন।
অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ড. শামীম কায়সারের এ অর্জন তাঁর গবেষণা ও শিক্ষকতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ স্বীকৃতি তাঁকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সমাজকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগে কাজ করতে উৎসাহিত করবে। তিনি ড. শামীম কায়সারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. এম. শামীম কায়সার বলেন, “বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ অর্জন আমার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গবেষণা দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সমৃদ্ধ করতে ভবিষ্যতেও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
