নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে হামলা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের নেপথ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত-শিবিরের অপকর্মের সংরক্ষিত তথ্য ও ঐতিহাসিক নথি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের সড়কে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “১৯৭১ সালে যারা ধর্মের বিভাজন সৃষ্টি করে নিরীহ বাঙালি হত্যা করেছিল, সেই রাজাকার ও আলবদরের দোসররাই গতকাল রাবি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। লাইব্রেরির মতো একটি পবিত্র ও নিরাপদ স্থানে ঢুকে শিবিরের কর্মীরা যেভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেছে, তা নজিরবিহীন। লাইব্রেরিতে এই তাণ্ডব চালানোর মূল উদ্দেশ্যই ছিল ৭১-এ জামায়াত-শিবিরের নানা অপকর্মের সংরক্ষিত তথ্য ও বইপুস্তক মুছে ফেলা।”
ছাত্রশিবিরকে অনৈতিক সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আরও বলেন, “তারা মহান ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে নোংরা ও অনৈতিক অপরাজনীতি করছে। শুধু লাইব্রেরি নয়, পুরো ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করেছে তারা। আমরা এই মব ভায়োলেন্সে জড়িত প্রতিটি ক্যাডারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
উক্ত মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের প্রতি হামলার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন না, তারা এই ক্যাম্পাসেরই শিক্ষার্থী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় কোনো সংবাদ কারো পছন্দ না হলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া, হুমকি দেওয়া বা ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো কোনো সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা হতে পারে না।”
মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লাইব্রেরিতে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল করে আইনের আওতায় আনা, ২. ঘটনায় জড়িত বিতর্কিত রাকসু প্রতিনিধিদের তদন্ত সাপেক্ষে পদ থেকে অপসারণ ও চিরতরে বহিষ্কার করা, ৩. প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, ৪. নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ওঠা মূল অভিযোগের স্বচ্ছ বিচার, ৫. ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা, এবং ৬. সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।
মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ৬ দফা না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
