নিজস্ব প্রতিবেদন : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে রেকর্ড ১২৮ বারের মতো পেছাল বহুল আলোচিত এই জোড়া খুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন। নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৭ আগস্ট।
আজ বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বনির্ধারিত দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হন। এর প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী এই নতুন দিন ধার্য করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের কথিত ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান জামিনে রয়েছেন, নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক এবং অপর আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে বন্দি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। ঘটনার মাত্র চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত চালিয়ে রহস্য উদঘাটনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় ডিবি। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তবে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্য উন্মোচনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এক ঐতিহাসিক আদেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের এই উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু নতুন গঠিত টাস্কফোর্স ও পিবিআই-ও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ১২৮ তম বারের মতো পিছিয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত এই বিচার প্রক্রিয়া।
