নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (আমেরিকা ২৫০) সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল একটি ব্যতিক্রমী ধারাবাহিক গণ-কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে শহর তথা গোটা মার্কিন রাষ্ট্র গঠনে অনন্য অবদান রাখা বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে।
বিভিন্ন নামী সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অভিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবদানকে সবার সামনে তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের মতে, নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে এই সম্প্রদায়গুলো বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলিয়া মেনিন এই প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবদান অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিনির্মাণে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদযাপনের মাধ্যমে সেই অবদানগুলোকে এবার নতুনভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে ‘লিগেসি কুইল্ট প্রজেক্ট’ প্রদর্শন করা হবে। ৪০৬টি হাতে তৈরি অংশ নিয়ে গঠিত এই বিশেষ কুইল্টে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অবদানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি আফ্রিকান আমেরিকানদের জাতীয় খাদ্য সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হবে।
এছাড়া আগামী ২৫ জুন সিটি হল পার্কে ‘উই দ্য সিটি: কবিতা পাঠ’ শীর্ষক একটি বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিশ্বখ্যাত কবিতা “দ্য নিউ কলোসাস” বিভিন্ন ভাষায় পাঠ করা হবে, যা সরাসরি নিউইয়র্কের বহুভাষিক ও বৈচিত্র্যময় পরিচয়কে তুলে ধরবে।
পাশাপাশি আগামী ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘উই দ্য সিটি’ শীর্ষক ডিজিটাল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড মিউজিয়াম এবং ব্রঙ্কস চিলড্রেনস মিউজিয়ামসহ একাধিক নামকরা স্থানে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি ও গল্পের মাধ্যমে অভিবাসীদের দীর্ঘ ইতিহাস প্রজেকশনের সাহায্যে প্রদর্শন করা হবে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নান্তাশা উইলিয়ামস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুধাবন করতে হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং অভিবাসীদের অবদানকে কেন্দ্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এই কর্মসূচিগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে সেই অবদানের গল্পগুলো তুলে ধরবে।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুরাদ আওয়াওদেহ বলেন, অভিবাসীরা নিউইয়র্কের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের জীবনসংগ্রামের গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। এই উদ্যোগ নিউইয়র্কের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শহরের বৈচিত্র্যকে চমৎকারভাবে উদযাপন করবে।
