ফোরটিন ডেস্ক : সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠ কার্যত ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দখলে ও নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়েও দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ও উপস্থিতি অত্যন্ত শক্তভাবে জানান দিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৩৪টি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এমন নজিরবিহীন ও সাহসিকতাপূর্ণ রাজপথের মহড়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সর্বদা নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে প্রবল আত্মবিশ্বাস ও সাংগঠনিক পুনরুজ্জীবনের আভাস। ঝটিকা মিছিল ও গোপন সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের এই সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, কৌশলগতভাবে মাঠের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের হাতেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মন্তব্য করছেন, রাজপথে দলীয় উপস্থিতি ধরে রাখার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কেবল নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে না, বরং দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের প্রধান নিয়ামক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখছে। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, কর্মীদের এই সুসংগঠিত অবস্থান আগামী রাজনৈতিক ধারায় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
