নিজস্ব প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক বিশাল চিরুনি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বুধবার বিকেলে সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাংয়ের তেলোক গং শিল্প এলাকার একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এই ‘অপস মেগা’ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইমিগ্রেশন পুলিশ আকস্মিকভাবে কারখানায় প্রবেশ করতেই শ্রমিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি লেগে যায়। গ্রেফতার এড়াতে অভিবাসী শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত জায়গায় আত্মগোপন করে দিগ্বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
তল্লাশির একপর্যায়ে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিককে কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ময়লাভর্তি একটি বড় রোরো কনটেইনারের ভেতর থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ কথা না বলে হাতজোড় করে বারবার ইংরেজিতে ক্ষমা চাইতে থাকেন।
একই কারখানায় অন্য দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে কাঠ কাটার মেশিনের পেছনে এবং আসবাবপত্রের বড় বড় বাক্সের আড়ালে ধুলোবালির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁদের শরীর ও চুল কারখানার কাঠের গুঁড়ো ও ময়লায় পুরোপুরি ধূসর হয়ে গিয়েছিল।
এর আগে ওই দিন সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয়। প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে গোপন নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর ইমিগ্রেশন বিভাগের মোট ৫০ জন কর্মকর্তার একটি বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মেরুর প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে ১৮ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন করে নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে, তেলোক গংয়ের আসবাবপত্র কারখানায় ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। এই ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন পাকিস্তানি, ৩৩ জন নেপালি, ৪ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত সকল শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটককৃতদের সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকে ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন করে কাজ করছিলেন।
কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই ক্র্যাকডাউন শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ম্যাসেজ পার্লারের মতো জায়গাগুলোতেও তা চালানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
