ফোরটিন ডেস্ক : পরিবারের সবাইকে নিয়ে লেকের ধারে গ্রীষ্মকালীন তাঁবু খাটিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দের মুহূর্তে হঠাৎ নেমে এসেছে এক অমানবিক ও চরম বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও চার সন্তানের জননী ব্রিটেনি মিলার এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন। তাঁবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং করতে গিয়ে অন্তত ১৫টি অতি বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে পচন ধরেছে এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষের দিকে কানসাসের উইচিতা শহর থেকে ৩৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত চিনি স্টেট পার্কে পরিবার নিয়ে ক্যাম্পিংয়ে যান ব্রিটেনি। রাতের বেলা ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে থাকার সময় হঠাৎ তিনি টের পান তার পোশাক ও পায়ে একাধিক মাকড়সা উঠে এসেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্তত ১৫টি বিষাক্ত মাকড়সা তার পায়ের দুই পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় বসায়।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে ব্রিটেনির ডান পায়ে মারাত্মক ব্যথা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত উইচিতার ওয়েসলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, মাকড়সার বিষক্রিয়া থেকে তার পায়ের মাংসপেশিতে বিশালাকার রক্ত জমাট বেঁধে পচন ধরতে শুরু করেছে।
চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়ে সর্বোচ্চ এক মাসের আয়ু নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তবে ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার সন্তান ও স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে হার মানেননি ব্রিটেনি। টানা মেডিকেল আইসিইউ এবং কার্ডিও আইসিইউতে রেখে প্লাজমা, অণুচক্রিকা ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, তাকে কামড়ানো মাকড়সাগুলো কানসাস অঞ্চলের অতি বিষাক্ত ‘ব্রাউন রিক্লুস’ প্রজাতির।
এদিকে এই টানা মানবিক সংকটে মিলার পরিবারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক বিপর্যয়। হাসপাতালে মুমূর্ষু স্ত্রীর পাশে দিনরাত অবস্থান করার কারণে চাকরি হারিয়েছেন স্বামী জেইক মিলার। উপার্জন ও স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চার সন্তান নিয়ে পরিবারটি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। স্ত্রীর জরুরি যকৃৎ প্রতিস্থাপন ও চিকিৎসার খরচ জোগাতে জেইক সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাকুল আকুতি জানিয়েছেন।
