নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে। জাতীয় গ্রিডে তীব্র গ্যাস ঘাটতির ফলে নগরের হাজার হাজার বাসাবাড়িতে যেমন চুলার আগুন জ্বলছে না, তেমনি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও বড় বড় রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যত ধসে পড়েছে।
কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর চট্টগ্রামে দৈনিক ৩৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ২০ থেকে ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে প্রতিদিন কেবল চট্টগ্রামেই তৈরি হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বিশাল ঘাটতি।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে নগরের আবাসন ও শিল্পখাতে। হালিশহরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সারাদিন গ্যাস থাকে না, গভীর রাতে এলেও চাপ থাকে একেবারে তলানিতে; বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা।
শিল্পাঞ্চলের পতেঙ্গা, ইপিজেড, কালুরঘাট ও সীতাকুণ্ডের পোশাক ও ওয়াশিং কারখানাগুলোতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়াশিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গ্যাসচাপ না থাকায় অধিকাংশ মেশিন বন্ধ এবং উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৩৫ শতাংশের বেশি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একই চিত্র বিএসআরএমসহ বড় ইস্পাত কারখানাগুলোতেও, যেখানে বিকল্প হিসেবে তেল ব্যবহার করায় লাফিয়ে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম জানান, মহেশখালীর টার্মিনালে দুটি বয়লারের একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সারাদেশে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
