নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বসতবাড়ির পাশে লুকিয়ে রাখা বোমা সদৃশ বস্তুর বিকট বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৩ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণে গুরুতর আহত ও দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, কন্যা ইতি আক্তার এবং নাতি শিশু ফাহিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলা হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠলে আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দগ্ধদের স্বজন জামাল হোসেন জানান, ঘরের পাশে রাখা একটি বালুর বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা বোমাটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে মা, বোন ও ভাগিনার শরীরে আগুন ধরে যায়। যন্ত্রণায় ছটফট করে পরনের কাপড় পোড়া অবস্থাতেই আত্মরক্ষার্থে তারা পাশের ‘তুলাতলা’ নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।
সংবাদ পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন জানান, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক ও নেপথ্য ষড়যন্ত্র:
বরিশালের এই নির্মম ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সারাদেশে যেভাবে সিরিজ বোমা হামলা, পেট্রোল বোমা ও গুপ্ত নাশকতার সংস্কৃতি কায়েম হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে তাজা বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে সেই অন্ধকার অতীতের আতঙ্কই ফিরিয়ে আনছে। সচেতন মহলের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে কোনো চিহ্নিত মৌলবাদী ও অসৎ রাজনৈতিক গোষ্ঠী আবার গোপনে বিস্ফোরক জমাচ্ছে কি না, তা কঠোর হস্তে দমন করা জরুরি।
