নিজস্ব প্রতিবেদক : সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পর্যায়ে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হচ্ছে।
টকশোতে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “এই ভরা জোয়ারে যেসব জেলায় বিএনপির এমপি প্রার্থীরা ফেল করেছে, যাদের জনগণ ভোট দেয় নাই, ন্যূনতম কোনো জনপ্রিয়তা যাদের নাই—তাদেরকে বিভিন্ন জেলার প্রধান তথা জেলা প্রশাসক হিসেবে বানিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের যেসব নেতা নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন বা নমিনেশন পাননি, তাঁদের জেলাগুলোর শীর্ষ পদে বসানো চরম হতাশাজনক।”
প্রশাসনিক পদায়নের সততা ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “আজকে আলোচনায় উঠে এসেছে যে ‘পদই যথেষ্ট, আর কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নাই’। ঠিক এই বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরোধিতা করেই কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছিল। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান বানিয়েছে এক সোয়েটার ফ্যাক্টরির মালিককে।”
রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর জনগণ যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধা ও নিরপেক্ষ বিচার আশা করলেও মাঠ প্রশাসনে একের পর এক অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসিয়ে পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকেই ধ্বংস করা হচ্ছে।
টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া রুমিন ফারহানের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র চড়াও বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
