নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ২০২৬) তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোর থেকে চট্টগ্রামে এনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের রোমাঞ্চকর অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক জনপ্রিয় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ক্যাডার ‘ধামা ইলিয়াস’কে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে—বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদে’র ডানহাত ও শুটার ডেভিড ইমন এবং তাঁর অন্যতম সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান সীমান্ত টপকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা অভিযান চালায়। তবে চতুর এই সন্ত্রাসী ঘন ঘন নিজের রূপ ও অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে পরাস্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্তের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ তার চার প্রধান সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
একই সময়ে সন্ত্রাসীদের অপর আস্তানা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানকে গ্রেপ্তারে পৃথক অভিযান চালানো হলেও টের পেয়ে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পলাতক রায়হানকে আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র ও জোরপূর্বক চাঁদাবাজির অন্তত ১৩টি পরোয়ানাভুক্ত মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘ দিন ধরে প্রবাসী সাজ্জাদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে বিপুল চাঁদা আদায় এবং ভাড়াটে শুটার হিসেবে ‘টার্গেট কিলিং’ চালিয়ে পুরো চট্টগ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
