বিশেষ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এমপি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু বহনকারী গাড়িটি মারাত্মকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে হামলার খবরটি প্রথম নিশ্চিত করেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। তিনি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করে লেখেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।”
একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু। ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি জানান, “শহীদ পরিবারের সাথে প্রোগ্রাম করে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবারও ভয়াবহ হামলা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়িতে আমি, সার্জিস এবং অন্যান্য কয়েকজন ছিলাম। এরা আসলে আমাদের মেরে ফেলার জন্যই এমন চেষ্টা করছে।”
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “আমাদের গাড়ির ডান পাশের পেছনের গ্লাসগুলো আঘাত করে গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলা হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, পুলিশ সেখানে পুরোটা সময় নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারেক রহমানের কাছে জবাব চাওয়া যাবে না, তাতে নাকি আবার বেয়াদবি হবে!”
উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথেও সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে তাণ্ডব চালিয়েছিল বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ওই হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন এবং সোনালী ব্যাংক ভবনে সারজিস আলমকে ঘেরাও করে রাখার মতো ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ ও বাহুবল সীমান্তে পুলিশি ব্যারিকেড পেরিয়ে আজ সকালে এনসিপি নেতারা সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ ৭ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছেছিলেন। তবে ফেরার পথেই ফের এই রক্তাক্ত হামলার শিকার হলেন তারা।
