নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করে ফেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই জঘন্য অপরাধে ও ধর্ষণে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগে এক নারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও মতলব উত্তর থানার ওসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের মো. আব্দুল কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং তানিয়া আক্তার (২৮)। এদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুম কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে ওই ছাত্রীটি তাঁর বড় বোনের বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো।
গত ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর কাইয়ুম অপর অভিযুক্ত নারী তানিয়ার সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল দেখিয়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর হুট করে সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মেডিকেল প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ওই নাবালিকা বর্তমানে ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ভয় কাটিয়ে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে আজ বুধবার সকালে মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে আসামিদের গ্রেফতার করে এবং আজ বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠায়।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, পুলিশ বিষয়টি জানার পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিকটিমের অভিযোগ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মূল আসামি এবং তার নারী সহায়তাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।
