নিজস্ব প্রতিনিধি : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বড় ধরনের অভিবাসন বা ‘আইস’ (ICE) অভিযান চালানোর তীব্র ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জার টম হোম্যান। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসরকে ঘিরে যখন বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শকের আগমন ঘটছে, ঠিক তখনই এমন হুঁশিয়ারি প্রবাসী ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান সাফ জানান, নিউইয়র্ক সিটিতে এবার এমন বিপুল সংখ্যক আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হবে, যা এই শহরটি আগে কখনও দেখেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি অপারেশনাল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে আগেই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি গভর্নর হোকুল একটি বিশেষ বিলে সই করেন, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টদের বেপরোয়া অভিযান সীমিত করা এবং অভিবাসন কার্যক্রমে কিছু আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জারের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য মূলত গভর্নরের ওই অভিবাসীবান্ধব পদক্ষেপেরই একটি সরাসরি পাল্টা প্রতিক্রিয়া।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই নিউজার্সির একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রের সামনে জোরালো বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এমন সংকটময় প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন অভিবাসীদের আতঙ্কের মুখে না পড়ে নিজেদের মৌলিক আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি জোর দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তি, তাঁর অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, কিছু মৌলিক অধিকার ভোগ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো নীরব থাকার অধিকার, যার ফলে আইস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হলে আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নীরব থাকা যায়।
এছাড়া আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়া ঘরে বা শরীরে তল্লাশির ক্ষেত্রে সম্মতি না দেওয়া, কোনো অজানা নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের অধিকারের কথা উচ্চকণ্ঠে প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীদের সুরক্ষার্থে গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার ফটোকপি সঙ্গে রাখার তবে অপ্রয়োজনে তা প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পাসপোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মূল নথিপত্র নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন অবশ্যই পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কোনো অভিভাবক যদি হঠাৎ আটক বা গ্রেপ্তার হন, তবে তাঁর অবর্তমানে শিশুর দেখভালের জন্য আগে থেকেই একজন বিশ্বস্ত আইনি অভিভাবক বা ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রিকেটপ্রেমী বর্তমানে নিউইয়র্কে আসছেন। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে বিশাল একটি দক্ষিণ এশীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠীও স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, যার ফলে এই মরণকামড় আইস অভিযান এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা প্রবাসীদের মাঝে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
