নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের স্টেট সেনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনের সেনেটর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান আইনজীবী হাসিব ফাতমী।
গত ২১ মে নর্থ ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারকরা হাসিব ফাতমীকে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই পদে মনোনয়ন দেন। সাবেক সেনেটর টেরেন্স এভারিটের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া এই আসনটিতে সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত সপ্তাহে তিনি শপথ নেন।
নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম শহরে ১৯৮৮ সালে জন্মগ্রহণ করা হাসিব ফাতমীর পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায়। তাঁর বাবা মোহাম্মদ বদরুল এহসান ফাতমী এবং মা সাইদা ফাতমী স্নিগ্ধা ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান।
শিক্ষাজীবনে হাসিব ফাতমী ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক এবং ২০১২ সালে নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইনের ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নাগরিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাচনি সমাবেশে হাসিব ফাতমী জানান, সম্প্রতি তিনি ওয়েক ফরেস্ট টাউনের কমিশনার হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা তাকে পূর্ণ মেয়াদের জন্য পুনরায় নির্বাচিত করবেন।
আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে আগে থেকেই প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন হাসিব ফাতমী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই স্টেট সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, যা তাকে ব্যালট যুদ্ধে বাড়তি সুবিধা দেবে।
হাসিব ফাতমীর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির আরেকটি বড় উদাহরণ। বর্তমানে জর্জিয়ায় শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, ভার্জিনিয়ায় সাদ্দাম আজলান সেলিম, কানেকটিকাটে মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যামশায়ারে আবুল খান আইনপ্রণেতা হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এই ধারাবাহিক উত্থান শুধু প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বই বাড়াচ্ছে না, বরং নতুন প্রজন্মকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব ও জনসেবায় এগিয়ে আসতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে।
