জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনি ‘বাখের আলী’ নাম পরিবর্তন করে জুলাই আন্দোলনের শহীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর স্কুলমাঠে জাসদের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে আকস্মিক ব্রাশফায়ার করে স্বাধীনতাবিরোধী চরমপন্থী ‘লাল্টু বাহিনী’। এই নৃশংস হামলায় মঞ্চেই লোকমান হোসেন, ইয়াকুব আলীসহ কয়েকজন নিহত হন।
হামলাকারীরা কাজী আরেফ আহমেদকে খুঁজলে তিনি নিজে পরিচয় দিয়ে অন্যদের আর গুলি না করার অনুরোধ জানান। কিন্তু খুনিরা তৎক্ষণাৎ গুলি করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার বুক ঝাঁজরা করে দেয়।
দেশ কাঁপানো এই হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালে কুষ্টিয়া জেলা আদালত ১০ জনের ফাঁসির আদেশ দেন এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এই দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪ জন পলাতক ছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম বাখের আলী।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই খুনি ‘কবির’ ছদ্মনাম ধারণ করে নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে টঙ্গীর আরিচপুর এলাকায় আত্মগোপনে বসবাস করছিলেন।
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের চেষ্টার সময় আজমপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালায়। সেই সংঘর্ষে নাকের নিচে গুলি লেগে আহত হলে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে কবির নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে এই কবিরকেই অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বিতর্কিত জুলাই শহীদ গেজেটের ২০৪ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পুলিশের ওপর হামলাকারী এই নিহত কবিরই আসলে জাসদ নেতা কাজী আরেফের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনি বাখের আলী।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, গত ৫ আগস্ট এই ছদ্মবেশী খুনির মৃত্যুবার্ষিকীতে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী এবং দৌলতপুর থানার ওসি মো. সোলাইমান শেখসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। তাঁরা বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে এই ভুয়া নামের ‘শহীদ কবিরের’ কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
