নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদে গত তিন মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধির অধীনে দেওয়া নোটিশের ওপর ২ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতেই রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে এই জরুরি বিষয়টি সংসদে বলতে হচ্ছে।
তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দাবি করেন যে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ৪৭৬টি খুন ও ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনের আরও কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্রও সংসদে প্রকাশ করেন। আলোচিত সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৪৯৬টি, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন নারী।
এছাড়া এই সময়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ছিল ৪৯ থেকে ৭১ জন। এই পরিসংখ্যানগুলোই স্পষ্ট করে দেয় যে গত তিন মাসে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা ঠিক কেমন ছিল।
রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি আগেই বলেছিলেন এই সরকারের অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা—এই দুটি বিষয়ে যারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তাদের ওপরেই নির্ভর করবে সরকারের ৫০ ভাগ সফলতা বা ব্যর্থতা। বাকি ৫০ ভাগ নির্ভর করবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ওপর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলে তাঁর পক্ষে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলা সহজ হতো। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে সরকারের সফলতার একটি বড় অংশ অর্থ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে।
