নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার সাধারণ গ্রাহক ডিপিএস, এফডিআর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
আর্থিক জালিয়াতির এই মূল অভিযোগের তির উঠেছে সংশ্লিষ্ট এজেন্ট শাখার মালিক ইশফাক ইয়াছিনের দিকে। ১লা জুন দুপুরে বিপুল পরিমাণ ক্যাশ টাকা নিয়ে তিনি এলাকা থেকে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ইশফাক ইয়াছিন এলাকায় একজন অনলাইন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে পরিচিত ছিলেন। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি গ্রাহকদের মনে এক ধরণের অন্ধ বিশ্বাস তৈরি করতে সক্ষম হন।
ডিপিএস ও এফডিআরে অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে তিনি এককভাবে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত সকল মোবাইল নম্বর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
টাকা হারিয়ে এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার ৩ হাজার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যেরা। প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে জানান, বিভিন্ন সামাজিক ও প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে তাঁর বিশ্বস্ততা দেখে মানুষ টাকা রেখেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে পথে বসতে হলো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকার একটি আদালতে প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পূর্বের সেই আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও নোয়াখালীতে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এত বড় জালিয়াতি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইশফাক ইতিমধ্যেই দেশত্যাগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁরা অনতিবিলম্বে এই প্রতারকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আমানতের টাকা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও পুলিশ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা আনুষ্ঠানিক মামলা পায়নি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেই অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
