নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নের আলীনগর এলাকায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে (২২) নিজ ঘরে ঢুকে হাত-মুখ বেঁধে পাশবিক গণধর্ষণ ও সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
গত বুধবার (৩ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সাভারের কাউন্দিয়া আলীনগর এলাকার মূলহোতা সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬), সাকিব (২০) ও ওই বাড়ির ম্যানেজার মজিবর রহমান (৪৮)। মামলার অন্য দুই আসামি—মেহেদী হাসান (১৬) ও অজ্ঞাতনামা এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলীনগর এলাকার ওই বাড়িটির ম্যানেজার মজিবর রহমানের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের পূর্ব পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে মজিবর দীর্ঘদিন ধরে ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে অনৈতিক ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ওই গৃহবধূর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল সে। গত ২২ মে রাতে গৃহবধূর ব্যবসায়ী স্বামী কাজের সূত্রে ঢাকার বাইরে থাকার সুযোগে মজিবর রহমানের পরিকল্পনায় একদল সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষক ঘরে প্রবেশ করে।
অভিযোগে জানা যায়, ম্যানেজার মজিবর রহমান বাইরে পাহারায় থাকে এবং ঘরের ভেতর সাইফুল ইসলাম রানা ও তার সহযোগীরা ওই গর্ভবতী নারীকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সময়ে মেহেদী হাসান নামের এক কিশোর পুরো ধর্ষণের ঘটনাটি মোবাইল ফোনে নিখুঁতভাবে ভিডিও ধারণ করে। পাশবিক নির্যাতন শেষে আসামিরা ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার (ভাইরাল) হুমকি দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য কড়া নির্দেশ দিয়ে চলে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানালে, গত ২৩ মে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম রানাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশি অভিযানে মজিবর ও সাকিবকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ভিডিও ধারণকারী মূল আসামি এখনও অধরা।
ভুক্তভোগী ওই নারী অত্যন্ত আতঙ্কের সাথে অভিযোগ করেন, “ঘটনার মূল ভিডিও ধারণকারীসহ দুই আসামি এখনও গ্রেফতার হয়নি। তাদের কাছে আমার ইজ্জতের ভিডিও রয়েছে, যা যেকোনো সময় ইন্টারনেটে ছেড়ে দিতে পারে। আমি দ্রুত তাদের গ্রেফতার এবং ভিডিওটি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
পলাতক আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও চক্রান্তের কারণে পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও গভীর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ধর্ষণের শিকার নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মামলার ৩ আসামিকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মোবাইল উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
