নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সোহেল রানার অন্ধকার অতীতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় আসার আগে থেকেই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত ছিল সোহেল। জুয়ার টাকার জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণের জালে জড়িয়ে একপর্যায়ে সে নিজের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
সবশেষ পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকা অবস্থায় সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে সোহেল। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেলের মূল বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়, যেখানে সে রিকশা মেরামতের কাজ করত। প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করা সোহেলের প্রথম সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সোহেলের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর প্রায় তিন বছর আগে পাশের গ্রামে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে।
সোহেলের ছোট বোন জলি বেগম জানান, মাদক, জুয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার কারণে তিন বছর আগেই তাকে পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
নাটোর থেকে ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে এক প্রবাসীর ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতে শুরু করে সোহেল ও তার স্ত্রী। ওই বাসার কেয়ারটেকার প্রথমে তাকে নিজের গ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ দিয়েছিলেন।
তবে ১৫ দিনের মাথায় কাজে চরম ফাঁকি দেওয়ায় তাকে গ্যারেজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে কেয়ারটেকারের অনুরোধেই ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া সোহেলকে তার বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকার সুযোগ দেন।
পল্লবীর এই ফ্ল্যাটে ওঠার আগে বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট নিয়েছিল সোহেল রানা। সেখানে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করার কারণে বাড়ির মালিক তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
গ্রামের বাড়ি নাটোর থেকে শুরু করে ঢাকা—সবখানেই মাদকের অন্ধকার জগৎ ও চারিত্রিক স্খলনে নিমজ্জিত থাকা এই সোহেল রানাই শেষ পর্যন্ত শিশু রামিসার জীবন কেড়ে নেয়।
