নিজস্ব প্রতিনিধি : চব্বিশের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তী আইনি আদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার ধকল কাটিয়ে ২০২৬ সালের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে এক সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আত্মগোপন ও সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা ভেঙে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ে হঠাৎ ঘুরে দাড়িয়েছে এবং এর বিপরীতে সরকার ও আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান দেশের সামগ্রিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটিকে পুরোপুরি মাঠছাড়া করার সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি বর্ম নেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালীর মতো কৌশলগত জেলাগুলোতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রকাশ্য রাজপথ দখল এবং পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা প্রতিপক্ষ শিবিরকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে জুমার নামাজ শেষে পুলিশের কড়া ব্যারিকেড ভেঙে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারমুখী স্লোগান এবং সংখ্যাধিক্যের কারণে একপর্যায়ে পুলিশের পিছু হটার ঘটনাগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মাঠপর্যায়ে দলটির সুপ্ত নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি।
এই হঠাৎ জেগে ওঠার চেষ্টা ও রাজপথের হুংকার মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকার এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘদিনের চেনা রণকৌশল এক ধরণের বড় চ্যালেঞ্জ বা মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি প্রতিপক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই সাংগঠনিকভাবে হাঁপিয়ে তুলেছে।
এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের নেপথ্যে কেবল মাঠের ঝটিকা শক্তি প্রদর্শনই নয়, বরং পর্দার আড়ালে এক সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক গ্লোবাল কূটনৈতিক চাপ কাজ করছে বলে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। কূটনৈতিক পাড়ার জোর গুঞ্জন, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশে একটি আসন্ন অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর পর্দার আড়ালে তীব্র জোর দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলের এই নীরব কূটনৈতিক পুনর্মূল্যায়ন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ফর্মুলার কারণে যেকোনো সময় আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের এক জোরালো আইনি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশ্বরাজনীতির এই নতুন মোড় এবং মাঠের আকস্মিক উত্তাপের সমান্তরালে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরকে এখন সম্পূর্ণ নতুন করে তাদের মাঠপর্যায়ের কৌশল ও রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাতে হচ্ছে।
এতদিন যারা কেবল নির্বাচন ও ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন, তাদের এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ও পুরনো এই রাজনৈতিক শক্তির রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে রুখতে বা সামাল দিতে গিয়ে অতিরিক্ত মনস্তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় করতে হচ্ছে। এটি এক প্রকার রাজনৈতিক হিমশিম খাওয়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
এরই মধ্যে দেশের আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও বেশি গতিশীল করে তুলেছে সদ্য কারামুক্ত প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক সফল মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে ১২টি মামলায় জামিন পেয়ে মুক্ত বাতাসে ফেরার ২৪ ঘণ্টার মাথায় তিনি সরাসরি ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ট্রাজিক বাসভবনে গিয়ে “৩২ ধ্বংস করলেই আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাবে না” বলে মেগা হুংকার দিয়েছেন।
তাঁর এই বক্তব্য দলটির মাঠপর্যায়ের হতাশ নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো ও জ্বালানি সঞ্চার করেছে। একই সাথে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে সশরীরে পা রাখার পূর্বেই বিদেশে বসে ভার্চুয়ালি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যে ‘মেগা শুদ্ধি অভিযান’ ও দল গুছিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দলটি সম্পূর্ণ নতুন ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব নিয়ে রাজপথে ফিরতে ব্যাকুল।
একদিকে আওয়ামী লীগের এই অল-আউট পুনর্গঠন মিশন ও মাঠের ঝটিকা শোডাউন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আইনি চাপ— এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে দেশের চলমান শাসনব্যবস্থা ও আওয়ামী লীগ বিরোধী জোটগুলো এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই রাজনৈতিক দ্বৈরথের চূড়ান্ত গতিপথ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণ কর
