নিজস্ব প্রতিনিধি : সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় থেকে নিজেই নিজেকে বিভিন্ন মামলা থেকে দায়মুক্তি দিয়েছিলেন এবং বর্তমান সরকার তাকে রাজকীয় খালাস দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও বিচার প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।
আনিস আলমগীর তাঁর পোস্টে বলেন যে জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পর সাধারণ মানুষ একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দেখার আশা করেছিল। কিন্তু আন্দোলনের আড়ালে ঘটা হত্যা আর সন্ত্রাস থেকে সংশ্লিষ্টদের ঢালাওভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
উল্লেখ্য যে হাম ও রুবেলার টিকা যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আবেদন-পরবর্তী শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে আনিস আলমগীর তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, সবচেয়ে তাজ্জব ব্যাপার হলো ড. ইউনূসকেও যেন সব কর্মকাণ্ড থেকে অলিখিত দায়মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি যখন গ্রামীণ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতায় ছিলেন, তখন নিজেই নিজেকে বিভিন্ন মামলা-অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিয়েছিলেন এবং এখন বর্তমান সরকার এসে তাকে রাজকীয় খালাস দিচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে দেশে আইনের শাসন কি তবে শুধু কাগজের বাঘ। এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হাম উপসর্গে ৬২০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়ে তিনি এই চরম ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এই ব্যর্থতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র এমপি মুজিবুর রহমান ইকবাল সাহেব যখন আদালতে মামলা করলেন, আদালত তা ‘যথেষ্ট গ্রাউন্ড নেই’ বলে সরাসরি খারিজ করে দিলেন। এর মানে দাঁড়ায় যে সময়মতো হামের টিকা আমদানি না করার পেছনে ড. ইউনূস, তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কিংবা ডিজি হেলথ—কেউই দায়ী নন।
আনিস আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান যে এতগুলো শিশুর মৃত্যুর দায় তবে কার, বাতাসের নাকি নিয়তির। দেশে জবাবদিহি কোথায় নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি মন্তব্য করেন যে সবাই যদি এভাবে ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে দায়মুক্তি পেয়ে যান, তবে আমজনতার জীবনের কোনো দাম থাকে না। এখন দেখার বিষয় যে আদালত থেকে ফেরা এমপি সাহেব সংসদে দাঁড়িয়ে এই নির্মমতা নিয়ে মুখ খোলার সাহস পান কি না, নাকি তিনিও নীরব দর্শকের ভূমিকা নেবেন।
