নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিএনপি সরকারের উদ্যোগে সম্প্রতি চালু হওয়া ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছেন কৃষকরা। কার্ড থাকলেও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল মিলছে না। তীব্র দাবদাহে পানির অভাবে বোরো ধানের খেত শুকিয়ে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় ধানে চিটা ধরতে শুরু করেছে। ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা।
পাবনার চাটমোহর, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, জামালপুরের সরিষাবাড়ীসহ রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন জেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে—ভোররাত থেকে ড্রাম ও বোতল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে লাইন দিচ্ছেন কৃষকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে মাত্র ২-৫ লিটার ডিজেল পাচ্ছেন, যা এক দিনের সেচের জন্যও যথেষ্ট নয়। অনেককে শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচনির্ভর একটি জাত, যা মূলত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নিয়মিত সেচের ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রায় ৬২-৬৫ শতাংশ বোরো জমি ডিজেলচালিত শ্যালো টিউবওয়েল ও পাম্পের মাধ্যমে চাষ করা হয়। বর্তমানে ডিজেলের তীব্র সংকট ও সীমিত সরবরাহের কারণে হাজার হাজার পাম্প বন্ধ রয়েছে। সুযোগ বুঝে খোলা বাজারে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকার সম্প্রতি কার্ডধারী কৃষকদের জন্য সার, বীজ, ঋণ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এর উদ্বোধন করে একে কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কৃষকরা আক্ষেপ করে বলছেন, হাতে কার্ড থাকলেও বাস্তবে ডিজেল মিলছে না; ফলে ধানের গাছ পুড়ে যাওয়া দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কৃষকরা অভিযোগ করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে এবারের বোরো মৌসুমে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয় ঘটবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে, যা সেচহীন ধানের শীষ শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেলের সরবরাহ বৃদ্ধি, কৃষক কার্ডের সুবিধা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করা এবং সেচের জন্য বিশেষ ভর্তুকি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। অন্যথায় বোরো আবাদে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
