নিজস্ব প্রতিনিধি
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচারণায় বেশি মনোযোগ থাকার সুযোগে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং নওগাঁর নিয়ামতপুরে পৃথক দুটি ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার গহীন পাহাড় থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, মজিবুর রহমান, নুর বশর ও রবিউল আউয়াল। তারা সবাই স্থানীয় শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খবর দেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপর দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিহতদের সাথেও এসব চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল। বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এই পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় থাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে একই পরিবারের চারজনকে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ৯ বছরের ছেলে পারভেজ এবং ৩ বছরের কন্যাসন্তান সাদিয়া আক্তার।
মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় এক বৃদ্ধা তাদের ঘরের দরজা খোলা দেখে ভেতরে গিয়ে সবার গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল ৮টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়দের ধারণা, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ৪ জনকে আটক করেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একদিকে টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের তণ্ডব, অন্যদিকে নওগাঁয় সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ড এই দুই ঘটনা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার যখন খালকাটা ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাহবা নিতে ব্যস্ত, তখন মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। একের পর এক এমন লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
