মো. আসাদুল আলম, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান চার দিনের সরকারি সফরে আজ (১৬ এপ্রিল ২০২৬) রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন।
তিনি “Korea–Bangladesh Library ODA Working Conference”-এ অংশগ্রহণের জন্য এ সফরে যাচ্ছেন। কোরিয়া ভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান Libertree Inc.-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ সম্মেলন আগামী ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত হবে।
গ্রন্থাগার খাতের আধুনিকায়ন, তথ্য ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনটি মূলত দুই দেশের মধ্যে Official Development Assistance (ODA) কাঠামোর আওতায় গ্রন্থাগার উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান গ্রন্থাগার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল লাইব্রেরি সিস্টেম উন্নয়ন, বিবলিওগ্রাফিক ও মেটাডেটা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং এটি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রন্থাগার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করা এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।” তিনি আরও মনে করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ডিজিটাল লাইব্রেরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিক হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সফর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার গুণগত মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তাঁরা মনে করেন। উপাচার্যের আগামী ২১ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
