নিজস্ব প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘বিভ্রান্তিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ না করে ভোটের মাধ্যমে জনগণের হাতেই তাদের ভাগ্য ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির টকশো ‘রোড টু ডেমোক্রেসি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আনিস আলমগীর এসব কথা বলেন।
আনিস আলমগীর বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়ায় ছিল এবং আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন প্রত্যাশা করছিল, তখন তারা দলটিকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেনি। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তারেক রহমান নিজেই টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন। কারণ, আজ একটি দল নিষিদ্ধ হলে কাল যে অন্য আরেকটি দল নিষিদ্ধ হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বেগম জিয়া নিজেও প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার রাজনীতির কথা বলেছিলেন। এমনকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন যে কোনো দল নিষিদ্ধ হবে কি না, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।
আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনসমর্থন উল্লেখ করে এই সাংবাদিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত একটি রাজনৈতিক দল। সারা দেশে তাদের কয়েক কোটি সমর্থক ও প্রায় ৩০ শতাংশ নিশ্চিত ভোটার রয়েছে। বর্তমানে দলটির নেতৃত্ব বা রাজত্ব না থাকলেও এই বিশাল জনসমর্থনকে উপেক্ষা করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে জনমতের প্রতিফলনই চূড়ান্ত। নেপালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যেভাবে পতন হওয়া সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকা উচিত ছিল। নির্বাহী আদেশে এমন সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে যে সহাবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সিদ্ধান্ত কি সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়?’ আনিস আলমগীর মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে নিষিদ্ধের পথ বেছে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
