আজ আমার প্রচুর ব্যস্ততা। তারপরও ফাতরা ব্যারিস্টার ফুয়াদের ফাতরামি নিয়ে আমার দুই পয়সা (my two cents) জাতির সামনে তুলে না ধরলেই নয়।
ফাতরা ব্যারিস্টার বলেছেন, “পান্তা ভাত ইলিশ মাছ দিয়ে খাওয়া যায় এই ফাতরামি আমি শিখেছি পহেলা বৈশাখ দেখে।”
এবার আমার অভিজ্ঞতা বলি। আমার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে আমার নানী বাড়িতে। আমার নানাবাড়ি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবার এবং অর্থ সম্পদেও সমৃদ্ধ ছিল, যদিও নানার মৃত্যুর পর তাদেরও কিছুটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
যাইহোক, আমার বড় মামা ডেসাতে চাকরি করতেন। প্রতি সপ্তাহে বাড়ি আসেন। আসার সময় সদরঘাট থেকে বিশাল বিশাল সাইজের দুই জোড়া চার জোড়া ইলিশ নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। আমার সব মামারা পড়াশোনা করেছেন এবং নিজ গুণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। শুধু সেজ মামা প্রাথমিকের পরে আর পড়াশোনা করেননি। তিনি পরিবারের জমিজমা দেখাশোনাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
বর্ষার দিনে বড় মামা যখন বড় বড় ইলিশ নিয়ে বাড়ি আসতেন, সেই ইলিশ পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ শিল পাটাতে আধা বাটা করে পানি, তেল লবণ, হলুদ দিয়ে বসিয়ে জ্বাল দেওয়া হতো। একটা পর্যায়ে ইলিশের পানি শুকিয়ে আসতো, আর সারা বাড়িতে ইলিশ মাছের সুন্দর একটা গন্ধ বের হতো।
সেই সময়ে ফ্রিজ ছিলো না এ কথা সত্যি। কিন্তু আমার সেজ মামার পান্তা ভাতের সাথে পরের দিন সকালে ইলিশ মাছ দারুণ পছন্দ ছিল। বিশেষ করে ইলিশের পেটের মাছ পান্তা ভাতের উপর দেওয়ার সাথে সাথে মাখনের মতো তেল হাতের আঙ্গুলে জড়িয়ে যেতো, প্লেটের চারপাশে লেগে থাকতো। আর পান্তা ভাতের পানির সাথে মিশে থাকতো ইলিশের গুড়ি গুড়ি ডিম।
এটা শুধু আমার নানু বাড়ির গল্প না। প্রায় প্রতিটি পরিবারে রবিবার এবং বৃহস্পতিবার হাটের দিন কয়েক জোড়া ইলিশ পাটের দড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে লোকজন বাড়িতে ফিরতো। সাথে একটা বিশাল আকৃতির কঁচু। পরের দিন জ্বাল দেওয়া ইলিশ দিয়ে কঁচু শাক আর কঁচুর মোথা বেশ জনপ্রিয় এবং বলতে গেলে ঘরে ঘরে তৈরি খাবার ছিল। তখন বাঙালির আমিষের চাহিদা ইলিশ মাছই পূরণ করেছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের জন্ম ঠিক কোন জেলায় এবং পারিবারিক অবস্থা কেমন ছিল সেটি বিবেচনা করা যেতে পারে। ৮০-৯০ দশকের বাঙালি ইলিশ দিয়ে পান্তা খায়নি এটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আমি যখন ইলিশ রান্না করি আমার নানীর রেসিপিতে রান্না করি। এবং পান্তা ইলিশ মানে আমার কাছে পান্তা ভাতের সাথে ঝোল করে রান্না করা ইলিশ।
আরো মজার বিষয় হলো ইলিশ খেতে খেতে লোকজনের ডায়রিয়া হয়ে যেতো।
এই ফাতরা ব্যারিস্টার নিজে চোখে দেখেনি বলে বাকিদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। লোকজন এই রকম বিকৃত রুচির মানুষকে কী করে আইডল মানে বুঝিনা।
