মোহাম্মদ রাজিবুল হাসান, সংস্কৃতি প্রতিবেদক: এবারের বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩-কে রবীন্দ্রনাথের গান আর সরোদের যুগলবন্দী দিয়ে স্বাগতম জানালেন শান্তিনিকেতনের সাফিকা নাসরিন মিমি আর সরোদ শিল্পী তানিম হায়াত খান রাজিত। রবীন্দ্রনাথের গান ‘যদি তারে নাই চিনি গো’-এর সঙ্গে রাজিতের সরোদের এই অনন্য মেলবন্ধন। সাফিকা নাসরিন মিমি শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর স্কলারশিপসহ অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে সরোদ রাজিতের রক্তে; তাঁর পরিবারে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পারিবারিক ঐতিহ্য।
মিমি আর রাজিত রবীন্দ্রনাথের গান ও সরোদের যুগলবন্দীতে বাংলাদেশে পথপ্রদর্শক। পশ্চিমবঙ্গে এমন যুগলবন্দী নিয়মিত হলেও বাংলাদেশে আগে কখনো হয়নি; এখনো শুধু মিমি আর রাজিতই এটি করছেন। ২০২১ সাল থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ পেশাদার আঙ্গিকে এই কাজ করে আসছেন। এটি তাঁদের সপ্তম যুগলবন্দী।
এই প্রজেক্ট সম্পর্কে মিমি বলেন, “শত কাজের ভিড়েও ‘সরোদ-রবীন্দ্র যুগলবন্দীর’ এই প্রজেক্টটা করতে আমরা কখনো ভুলি না। লকডাউনের সময় প্রথম ঘরোয়াভাবে শুধু সরোদের সাথে এটি শুরু হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে আমরা পেশাদারভাবে এটি করছি। রাজিতকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এই প্রজেক্টটি ধারাবাহিকভাবে করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।”
রাজিত এই প্রজেক্ট সম্পর্কে বলেন, “আমার দাদু উস্তাদ আয়েত আলী খাঁ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে ১৯৩৫ সালে শান্তিনিকেতনের যন্ত্রসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। তাই এই যুগলবন্দীর প্রজেক্টটি আমাকে ভীষণ প্রশান্তি দেয়; শিকড়ে ফিরে যাওয়ার প্রশান্তি। আমার দাদু শান্তিনিকেতনের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন আর মিমি সেই শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রসংগীতের স্কলার। পুরো চক্রটি যেন বারবার পূর্ণ হয় এই যুগলবন্দীর মধ্য দিয়ে। আমরা অসংখ্য বাণিজ্যিক কাজ করি, তবে শিকড়ে ফিরে যাওয়ার মতো এই প্রজেক্টটি আমাদের নতুন করে সজীবতার নির্যাস দেয়। মিমিকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা গানটি গাওয়ার পাশাপাশি মাথা খাটিয়ে প্রজেক্টগুলো এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য। এই সুবাদে মিমিরও প্রতি বছর একটি অফিশিয়াল রবীন্দ্রনাথের গান আমরা শুনতে পাই একদম বৈঠকী আয়োজনে।”
যুগলবন্দীটির চমৎকার সংগীতায়োজন করেছেন দেশবরেণ্য সংগীত পরিচালক সজীব দাস। ভিডিও নির্দেশনায় ছিলেন ইয়াসির আরাফাত, ক্যামেরায় আশফি, টিম কোঅর্ডিনেটর ইফতেখারুল এহতেশাম লেনিন আর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ছিলেন সাফিকা নাসরিন মিমি।
ভেন্যু কৃতজ্ঞতায় রয়েছেন সোমা তাহেরা চৌধুরী। তাঁর বাংলোতে ধারণ করা ভিডিওগ্রাফিটি ভীষণ গ্ল্যামারাস হয়েছে, যা দর্শক-শ্রোতাদের ইতিবাচক রিভিউ থেকে জানা গেছে।
