নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রচণ্ড গরম আর বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং চুয়াডাঙ্গা জেলায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে ১০ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ঘন ঘন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
স্থানীয়রা জানান, দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার এবং রাতেও ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
প্রতিবারই বিদ্যুৎ থাকে না প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। ফলে পুরো দিন-রাত মিলিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে।
ভুক্তভোগী ইজি বাইকচালক সুজন মিয়া বলেন, রাতে একেবারেই বিদ্যু থাকছে না বললে চলে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে যতটুকু বিদ্যুৎ থাকে তাতে ইজি বাইক চার্জ হচ্ছে না, ফলে দিনে গাড়ি চালাতে পারছেন না।
এতে তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং নিত্যদিনের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইজি বাইকচালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে ইজি বাইকচালকদের জীবনযাত্রা আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি আরো বলেন, গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান।
আরেকজন দামুড়হুদা উপজেলা সদরের নিউ গ্রিন ফুডের স্বত্বাধিকারি জিহাদ হাসান জানান, অতিরিক্ত গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো কাজই ঠিকভাবে করা যায় না। দোকানে ফ্রিজ, ফ্যান কিছুই ঠিকমতো চালাতে পারছি না। ফ্রিজ মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে খুলতে পারছি না, এতে বিক্রি কমে গেছে। প্রতিদিনই লোকসানের মুখে পড়ছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরাও এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ থাকলে ও পরীক্ষার শেষ হওয়ার পরপরই লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চরম ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষার সময়েও এমন পরিস্থিতি থাকলে ফলাফলে প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম আলহাজ উদ্দীন বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় অতিরিক্ত গরমে রাতে অতিরিক্ত লোড হওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। দিনে বৃত্তি পরীক্ষার কারণে দুপুর পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে না, দুপুর ১টার পর থেকে দিনে ও লোডশেডিং হবে। লোডশেডিং কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
