নিজস্ব প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো ‘গুপ্ত শিবির’ কর্মীদের আসল পরিচয় এখন প্রকাশ্যে। এমনই এক ‘ছদ্মবেশী’ দাপুটে ছাত্রলীগ নেতার নাম আরিফুজ্জামান সৌরভ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ. রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সৌরভের বিরুদ্ধে গেস্টরুমে নির্মম নির্যাতন ও লালসা চরিতার্থ করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী, সৌরভ নিজে একজন চেইন স্মোকার হলেও জুনিয়রদের দিয়ে সিগারেট আনানোকে নেশায় পরিণত করেছিলেন। নিজে ধূমপান করেন না এমন শিক্ষার্থীদের দিয়েও তিনি নীলক্ষেত থেকে সিগারেট আনাতেন। অভিযোগ আছে, রাত আড়াইটার দিকেও ফোন বা মেসেজ দিয়ে তিনি জুনিয়রদের সিগারেট আনতে বাধ্য করতেন। প্রতিবাদ করলেই জুটত ‘শিবির’ তকমা দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি।
আরেকটি ঘটনায় জানা যায়, হলের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে সাধারণ কুশলাদি বিনিময় করায় সৌরভ ওই শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে ডেকে এনে সবার সামনে বুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। দরজার ওপর ছিটকে পড়া ওই শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সৌরভের দাবি ছিল, ঐ শিক্ষার্থী বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে ‘লবিং’ করার চেষ্টা করছিল। ভুক্তভোগীদের মতে, সৌরভের ‘ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া’র এক বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল যা তিনি নিয়মিত জুনিয়রদের ওপর প্রয়োগ করতেন।
২০২২ সালের শেষে ছাত্রদল প্রতিহত করার নামে সৌরভের নেতৃত্বে মাঝরাতে গেস্টরুম ডাকা হয়। শিক্ষার্থীদের কাছে ৪০টি ক্রিকেট স্টাম্প দাবি করেন তিনি। মাঝরাতে স্টাম্প জোগাড় করা অসম্ভব জানালে সৌরভ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেন, “স্টাম্প না পেলে মল চত্বর থেকে গাছের ডাল কেটে স্টাম্প বানিয়ে আন।” শিক্ষার্থীদের ‘টোকাই’ পর্যায়ের কাজ করতে বাধ্য করার এই মানসিকতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ছাত্রলীগে থাকাকালীন যিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘শিবির’ তকমা দিয়ে হল থেকে বের করার হুমকি দিতেন, সেই আরিফুজ্জামান সৌরভ এখন খোলস পাল্টে প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন তিনি জামায়াত-শিবিরের পক্ষে নিয়মিত অ্যাক্টিভিজম চালাচ্ছেন।
সচেতন শিক্ষার্থীদের দাবি, সৌরভের মতো সুবিধাবাদীরাই ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে দলের বদনাম কুড়িয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরতা চালিয়েছে। এরা মূলত দলের ক্ষতি করার জন্যই অনুপ্রবেশ করেছিল। এখন সময় বদলে যাওয়ায় এরা আবার স্বরূপে ফিরে এসেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ‘গুপ্ত অনুপ্রবেশকারী’ ও গেস্টরুমের নিপীড়কদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
