নিজস্ব প্রতিনিধি : বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটে যখন উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে ‘তৈল’ বা তেলের এক বিচিত্র তেলেসমাতি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বিখ্যাত ‘তৈল’ প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক চাটুকারিতার এক তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে চাকা ঘোরানোর তেলের হাহাকার থাকলেও ‘মন ভোলানো’ বা চাটুকারিতার তেলের কোনো অভাব নেই।
ড. মোমেন তাঁর লেখায় বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো জ্বালানি তেল পাচ্ছে না, তখন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা দাবি করছেন দেশে তেলের কোনো অভাব নেই। তেলের অভাবে ট্রাক চালক থেকে শুরু করে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালকদের ঘরে এখন খাদ্যের অভাব ও হাহাকার চলছে। অথচ সরকারের প্রোপাগান্ডায় প্রতিনিয়ত শোনানো হচ্ছে তেলের জাহাজ আসার খবর। এর মাঝেই এলপিজি গ্যাসের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
নিবন্ধে তিনি তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, একদল অতি উৎসাহী ‘তৈলবাজ’ নেতা ইতিহাস বিকৃতির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তাঁরা দাবি করছেন তারেক রহমান নাকি সাত বছর বয়সে পাকিস্তানি সৈন্য হত্যা করে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হয়েছেন। এমনকি বেগম খালেদা জিয়াকেও ‘প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চলছে। ড. মোমেন আক্ষেপ করে বলেন, যারা শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নকে অস্বীকার করছেন, তারা এখন সেই সরকারের রেখে যাওয়া চালের বস্তা ও ফ্যামিলি কার্ড বিলি করে নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতের জন্য রাখা প্রায় ৪১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যার ফলে টিকার অভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অথচ এর দায়ও চাপানো হচ্ছে বিগত সরকারের ওপর। ড. মোমেনের মতে, দেশে চাকা ঘোরানোর তেলের অভাব মেটাতে হলে এবং প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে এই ‘তেলবাজি’ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা জরুরি। অন্যথায় ২০৪১ সালের উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
