নিজস্ব প্রতিনিধি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসাহাসি ও কঠোর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যু ও বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে তার দেওয়া এক তথ্যে ভয়াবহ অসংগতি ধরা পড়ায় নেটিজেনরা একে ‘রাজনৈতিক ভাঁড়ামো’ ও ‘ইতিহাস বিকৃতি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের সময় মাওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, “মাওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম।”
অথচ ইতিহাসের দালিলিক প্রমাণ ও উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মাওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেন ১৯৭৮ সালে এবং বিতর্কিত সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। অর্থাৎ, মাওলানা ভাসানীর মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর বিএনপির জন্ম এবং তিন বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত মানুষ কীভাবে কবরের ভেতর থেকে জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতীক তুলে দিলেন—এই প্রশ্নে এখন উত্তাল ফেসবুক ও এক্স (টুইটার)। নেটিজেনরা তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কেবল ভুল নয়, বরং চরম অজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
আরিফুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মৃত্যুর তিন বছর পর মাওলানা ভাসানী এসে ধানের শীষ দিয়ে গেলেন! এটি তো আলাদিনের চেরাগের গল্পকেও হার মানায়। ক্ষমতার লোভে এরা ইতিহাসকে জ্যান্ত কবর দিচ্ছে।”
অন্য এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “ধানের শীষ মূলত ভাসানীর ন্যাপের প্রতীক ছিল। জিয়াউর রহমান সেটি নিজের দলের জন্য ছিনিয়ে নিয়েছেন, এটাই চরম সত্য। এখন মৃত মানুষকে টেনে এনে মিথ্যাচার করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর জন্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের সময় মাওলানা ভাসানীর ন্যাপের একাংশ জিয়াউর রহমানের সাথে জোটে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু খোদ ভাসানী তার বহু আগেই পরলোকগমন করেছেন। মাওলানা ভাসানীর জনপ্রিয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ জিয়াউর রহমান কৌশলে নিজের দলের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
তারেক রহমানের এই ‘অলৌকিক’ দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নেটিজেনদের একাংশ একে ‘চুরি করা প্রতীকের বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। একের পর এক ভুল তথ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার এই প্রবণতা বিএনপির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
