নিজস্ব প্রতিনিধি
জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় জিয়াউল হক জিয়া (৬৫) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত জিয়াউল হক জিয়া জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দিগপাইত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জিয়াউল হক জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারের ভেতর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সেখানে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বাবার মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। জিয়ার ছেলে জাকিউর রাফিদ নাফি জানান, “আমি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় আছি। বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর আমার বোন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এই মুহূর্তে আমাদের কথা বলার মতো মানসিক অবস্থা নেই।”
জামালপুর জেলা কারাগারের জেলার লিপি রাণী সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর জিয়াউল হককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে এই বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মৃত্যুর তালিকায় জিয়াউল হকের নাম নতুন করে যুক্ত হলো। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার অভাবকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
