নিজস্ব প্রতিনিধি : যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই যেন বৈশাখের আমেজ! একসময় যারা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আর বৈশাখী উৎসবকে ‘বিজাতীয় সংস্কৃতি’ বা ‘হারাম’ বলে ফতোয়া দিয়ে ক্লান্ত হতেন, আজ তারাই মাথায় গামছা বেঁধে পলো নিয়ে রাজপথে নেমেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর রাজপথে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠনগুলোর এমন এক ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ দেখে নেটিজেনদের চোখ এখন কপালে। ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে যখন মিছিলটি শুরু হলো, মনে হচ্ছিল কোনো এক লোকজ জাদুঘরের প্রদর্শনী রাজপথে নেমে এসেছে। হাতে মাছ ধরার পলো, কাঁধে ঢেঁকি, আর হাতে কুল সব মিলিয়ে জামায়াত যেন হঠাৎ করেই ‘খাঁটি বাঙালি’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
শিশুদের পরানো হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, আর লাউডস্পিকারে বাজছে জারি-সারি গান। সমালোচকরা বলছেন, গানগুলো শুনতে ভালো লাগলেও যারা গেয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে এই সুরের মেলবন্ধন আর মরুভূমিতে বৃষ্টি পড়া একই কথা।
শোভাযাত্রার আগের সমাবেশে বক্তারা বেশ জোর দিয়েই বললেন, পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন রুখতে হবে। তবে নেটিজেনরা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ছেন—তাহলে এতকাল বৈশাখ উদযাপন করলে যে ‘গুনাহ’ হতো, সেই তত্ত্ এখন কোন মিউজিয়ামে পাঠানো হয়েছে? হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন মূলত নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টাই এখানে বেশি স্পষ্ট। ফেসবুক এবং টুইটারে (X) এই শোভাযাত্রা নিয়ে হাসাহাসির রোল পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া কিছু মন্তব্যে দেখা গেছে নেটিজেনরা বলছেন, একসময় যারা পহেলা বৈশাখকে ‘শিরক’ বলতো, আজ তারা পলো নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছে দেখে বিবর্তনবাদ যেন প্রমাণিত হলো।
কেউ কেউ আবার উপহাস করে বলছেন, জামায়াত এখন এতটাই সেকুলার যে পরের বার হয়তো মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ পরে দেখা যাবে। রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকতে হলে মাঝে মাঝে যে ‘সাংস্কৃতিক খোলস’ বদলাতে হয়, জামায়াতের এই বৈশাখী আয়োজন তারই বড় প্রমাণ।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই এই ‘বাঙালিয়ানা’ কি কেবল লোকদেখানো স্ট্যান্ট, নাকি সত্যিই তাদের ‘হৃদয় পরিবর্তন’ হয়েছে? উত্তর যাই হোক, পলো হাতে জামায়াত কর্মীদের এই ছবি ট্রল দুনিয়ায় যে নতুন রসদ জুগিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
