রাষ্ট্রীয় ক্রয় নীতিমালা উপেক্ষা করে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই দুটি বিদেশি কোম্পানিকে ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর তালিকাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রক্রিয়ায় এই প্রতিষ্ঠান দুটিকে সরাসরি কাজ দেওয়া হলো, তা নিয়ে জ্বালানি ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অসংগতি ও রহস্যজনক মালিকানা:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজ পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান ‘কে এন্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং (ইউকে) লিমিটেড’, যার মালিক ফ্রান্সিস জন কিয়ারনান। কোম্পানি নিবন্ধনে তাঁর জাতীয়তা নিয়ে অসংগতি এবং ঠিকানার ঘনঘন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ফ্রান্সিস কিয়ারনান পেশায় একজন আইনজীবী এবং তিনি লন্ডনভিত্তিক আলোচিত আইন প্রতিষ্ঠান ‘গের্নিকা থার্টি সেভেন চেম্বার্স’ (G37)-এর সঙ্গে যুক্ত।
আইন, জ্বালানি ও রাজনীতির ‘ত্ৰিমাত্রিক’ যোগসূত্র:
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক ও আইনি সংযোগ। গের্নিকা থার্টি সেভেন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে এই চেম্বারেই কাজ করেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। একটি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের মতো সংবেদনশীল ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
নিয়ম লঙ্ঘন ও নিরবতা:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় কমিটির সভা না করে এবং বিপিসির তালিকার বাইরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন বড় চুক্তি সম্পাদন নজিরবিহীন। একটি জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ‘অদৃশ্য’ সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এদিকে, বিরোধী বা অন্যান্য রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া না থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ।
