গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশের মতো শক্তিশালী ‘বর্ম’ থাকার পরেও আমাদের চারপাশের চিত্রটা পাল্টায়নি। দুই দুইটা সরকার আসলো, দুইটাই চরমভাবে ব্যর্থ। তাদের ব্যর্থতার জেরে ফেব্রুয়ারি ‘২৬ পর্যন্ত ১৩ মাসে ৭৭৬টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। অথচ আমাদের মা-বোন-মেয়েদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল সরকারের।
সুদ ব্যবসায়ী ইউনুসের সরকারের বেশিরভাগ উপদেষ্টাই ছিল এনজিও নেতা-কর্মী। গণতান্ত্রিক সরকারের সময় তারা প্রতিবাদলিপি, মানববন্ধন। গোলটেবিল বৈঠকের মত অব্যর্থ অস্ত্র প্রয়োগ করে নারীদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সোচ্চার হতো। কিন্তু নিজেরা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থেকে এত বড় বড় ডিম পেড়েছে যে সেগুলোর ভারে দেশটাই ডুবতে বসেছে। তারা একটা আইন করেছে ঠিকই, কিন্তু আইন প্রয়োগের সকল মেকানিজমকে নিষ্ক্রিয় করে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার গুলো এখন নিজেরাই ক্রাইসিসে ভুগছে।
জুলাই জঙ্গি হামলার সময় পুলিশের ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছিল সেই হামলার বিচার ইউনুস সরকার করেনি। বর্তমান বিএনপি সরকারও পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী নয়। অথচ বর্তমান তথাকথিত নির্বাচিত সরকারের লোকজন ভোটে জেতা আগে থেকেই পুলিশ-র্যাবের উচ্চপদ দখল করেছেন, আইন-আদালতেও তাদের জয়জয়কার। কিন্তু আইন প্রয়োগের বেলায় তাদেরকে আগেও দেখা যায়নি, এখনো দেখা যাচ্ছে না। তারা গ্রাম্য সালিশের হাতে নারী নির্যাতনের বিচারের দায়িত্ব সঁপে দিয়ে নিশ্চিন্তে আছেন।
একদিকে কঠোর আইন, অন্যদিকে ১৩ মাসে ৭৭৬টি ধর্ষণের ঘটনা—এই ব্যবধানটাই বলে দেয় আমাদের বিচারব্যবস্থা আর বাস্তব প্রয়োগের মাঝখানে কত বড় ফাঁক রয়ে গেছে। নরসিংদীর সেই কিশোরী বা সীতাকুণ্ডের সেই ৭ বছরের শিশুটি আজ বেঁচে থাকত, যদি সমাজ আর সালিশি ব্যবস্থা আইনের ঊর্ধ্বে না যেত।
আর কত রক্ত ঝরলে আমরা বুঝব যে, দেশের এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা বর্তমান সরকারের নাই? আর কত মা-বোনের চোখের পানি ঝরার পরে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে?
