তীব্র জ্বালানি সংকটের কালো ছায়া পড়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে। গ্যাস ও তেলের চরম অভাবে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতা ও বিশেষজ্ঞরা এই শঙ্কার কথা জানান। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত এখন চরম নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ আলোচনায় জানান, বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তীব্র ডলার সংকটে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
জ্বালানির এই অভাবে শুধু পোশাক খাত নয়, সিমেন্ট উৎপাদন এবং পণ্য পরিবহনেও খরচ বহুগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে না পারলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান সভায় জানান, আগামী জুন মাস পর্যন্ত কৃষিকাজের জন্য অন্তত ৬ লাখ টন সার প্রয়োজন।
কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আসন্ন মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ টন সারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
