সারাদেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিন মাসে কমপক্ষে ৬১০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
এই সংঘাতের সিংহভাগই (৯৪ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের বিরোধের জেরে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ২৮ জনই বিএনপির নেতাকর্মী, যা মোট নিহতের ৭৮ শতাংশ। এছাড়া জামায়াতের ৪ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন এবং অন্যান্য ৩ জন নিহত হয়েছেন।
আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর সহিংসতা এবং চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক সংঘাতগুলোই ছিল এসব ঘটনার মূল কারণ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় দখল, পুনর্দখল এবং ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
মাসওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ১৫১টি সহিংসতায় ৮ জন নিহত হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা একলাফে বেড়ে ৩৪৬টি ঘটনায় ১০ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়। মার্চ মাসে সহিংসতার সংখ্যা কমে ১১৩টি হলেও প্রাণঘাতী তীব্রতা বেড়ে নিহতের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়ায়।
এইচআরএসএস-এর মতে, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষ এবং আধিপত্য বিস্তারই ছিল এই প্রাণহানির প্রধান অনুঘটক।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করায় দলটি ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
তবে নির্বাচনের পর ঢাকাসহ ৩০টি জেলা-উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা পুনরায় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে এইচআরএসএস বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, গণভোট আদেশ, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও দুদক নিয়োগ অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বর্তমান সংসদ অধিবেশনে বাতিল হওয়া উদ্বেগের বিষয়।
মানবাধিকার সুরক্ষায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব আইনি কাঠামো কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
