নিজস্ব প্রতিনিধি
শত প্রতিকূলতা আর বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে রাজপথে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করেছেন বশেমুরবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শনিবার ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুথ স্থাপন করে পানি বিতরণ করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা চড়াই-উতরাই এবং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও, ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে বিচ্যুত হননি। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে দিনভর রোদে পুড়ে পানি ও খাবার সরবরাহ করেছেন তারা।
এটিই প্রথম নয়; এর আগেও দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জয়ধ্বনি গেট থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের অলিগলি পর্যন্ত ছাত্রলীগের সেবামূলক কার্যক্রম সর্বজনবিদিত। অতীতেও তারা ভর্তিচ্ছুদের জন্য জয় বাংলা বাইক সার্ভিস, তথ্য কেন্দ্র এবং আবাসন সুবিধার মতো মানবিক কাজ পরিচালনা করে আসছিল। বর্তমান সময়ে তীব্র সংকটের মধ্যেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
ক্যাম্পাসে পানি বিতরণ কার্যক্রম দেখে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আবেগপ্লুত হয়ে বলেন,
“বাইরে প্রচণ্ড রোদ। এই সময় ছাত্ররা যেভাবে আমাদের দিকে পানির বোতল বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা নিজেরা মানবেতর অবস্থায় থেকেও আমাদের কথা ভাবছে, এটা বড় মনের পরিচয়। আমরা এই ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতিই দেখতে চাই।”
ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, দূর-দূরান্ত থেকে এসে পানির জন্য তাকে ছোটাছুটি করতে হয়নি। ছাত্রলীগের বড় ভাইদের এই সেবা তাকে মানসিকভাবেও সাহস জুগিয়েছে।
ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং সেবার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনো অপশক্তি বা ষড়যন্ত্রই তাদের এই মানবিক কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আদর্শ বুকে ধারণ করেই তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।
বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এই কার্যক্রম বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে সেবামূলক কাজের মাধ্যমে ছাত্রলীগ আবারও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে।
