কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাটিতে এখনো চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
মর্মান্তিক এই হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’-এ অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তুচ্ছ ভিডিওকে কেন্দ্র করে উগ্র জনতাকে উসকে দেওয়া হয়। এরপর একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা দরবারে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পীর শামিমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
রবিবার দৌলতপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও দরবার শরিফের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিচারবহির্ভূত এই ‘মব কিলিং’-এর ঘটনায় দেশের মানবাধিকার কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা ও জনতাকে উসকে দেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এ ধরনের অরাজকতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
