নিজস্ব প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য রাকিবকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে নির্জন বাগানে ফেলে রেখে গেছে বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়বিদারক ভিডিওতে দেখা গেছে, নির্জন বাগানে পড়ে আছে রাকিবের নিথর দেহ। তার শরীরের জামাকাপড় ছিন্নভিন্ন এবং সারা শরীরে আঘাতের বীভৎস চিহ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রাকিবকে টার্গেট করে আসছিল স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা। গত রাতে তাকে একা পেয়ে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। তাকে পিটিয়ে শরীরের হাড়গোড় গুঁড়িয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা লাশটি বাগানে ফেলে পালিয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাকিবের লাশের যে অবস্থা দেখা গেছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে বিরোধী মতের মানুষকে নির্মূল করার এক অঘোষিত মিশনে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির। বিশেষ করে ছাত্রলীগের উদীয়মান নেতৃত্বকে টার্গেট করে তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়। বরং ভিন্নমতের মানুষের কণ্ঠরোধ করার এক পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি-জামায়াত জোট আবারও তাদের সেই পুরনো ‘লাশ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি’তে ফিরে এসেছে।
নিহত রাকিবের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তবে এক অদ্ভুত ভীতি ও বিচারহীনতার আশঙ্কায় পরিবারটি এখন নির্বাক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা বিচার চাইতেও সাহস পাচ্ছেন না।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় জানান, কাকে বলব বিচারের কথা? যারা মেরেছে তারাই এখন সব নিয়ন্ত্রণ করছে। বিচার চেয়ে উল্টো আরও হয়রানির শিকার হতে চাই না।
একই এলাকায় বারবার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টায় সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কসবা উপজেলার সাধারণ মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের দাবি, একটি সভ্য সমাজে এভাবে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলে রাখা মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপি-জামায়াতের এই রক্তপিপাসু রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।
নিউজটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। রাকিবের নিথর দেহের সেই ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো রাজনৈতিক দলগুলো এখন কোথায়? কেন একটি প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে গেল?
