২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের নেপথ্যে ওয়াশিংটনের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএসবি নিউজ ইউএসএ’।
গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র ৩২৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।
‘দ্য পেপার ট্রেইল: হাউ ওয়াশিংটন স্পেন্ট ওভার ৩২৫ মিলিয়ন ডিসম্যান্টলিং বাংলাদেশ’স ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দালিলিক প্রমাণ বা ‘পেপার ট্রেইল’ বিশ্লেষণ করে এই সুনির্দিষ্ট অংকের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি মূলত মার্কিন গ্র্যান্ট ডাটাবেজ, কংগ্রেসের সাক্ষ্য এবং সম্প্রতি উন্মুক্ত করা বিভিন্ন প্রোগ্রাম রিভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
সিএসবি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে অর্থ ব্যয়ের খাতগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, এই অর্থের একটি বড় অংশ স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও এবং নির্দিষ্ট কিছু নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে অর্থ প্রবাহের গতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় যা মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে খরচ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের ঘটনা কেবল কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী এবং সুপরিকল্পিতভাবে অর্থায়ন করা একটি মার্কিন প্রকল্প। সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলেছে যে কাগজে-কলমে পাওয়া প্রমাণগুলো কখনো মিথ্যা বলে না এবং যখন বিশ্বজুড়ে একে ‘গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছিল, তখন পর্দার আড়ালে মার্কিন অনুদানগুলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগোচ্ছিল।
২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনকে বিশ্বজুড়ে ‘জেনারেশন জেড’-এর বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করা হলেও নতুন এই তথ্য সেই ধারণাকে এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য সঠিক হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দেবে। এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে যদিও প্রতিবেদনটি নিয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং সেই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই দাবি ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
