কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ‘শান্তিপ্রিয়’ ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত পীর জাহাঙ্গীর শাহকে একদল উগ্রবাদী মব পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ধারী একদল ব্যক্তি তাঁর খানকায় হামলা চালিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল ফিলিপনগর বাজারের কাছে অবস্থিত জাহাঙ্গীর শাহের দরবারে প্রবেশ করে। সেখানে ধর্মীয় রীতি ও আকিদা নিয়ে তাঁর সাথে দলটির সদস্যদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উগ্র জনতা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে দরবার থেকে বাইরে বের করে আনে এবং লাঠি, রড ও ইট দিয়ে নির্বিচারে পেটাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কে এই জাহাঙ্গীর শাহ? স্থানীয়দের দাবি, জাহাঙ্গীর শাহ দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা, সামাজিক সালিশ এবং ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনো ফৌজদারি মামলা বা সামাজিক বিরোধের ন্যূনতম রেকর্ডও ছিল না। হঠাৎ করে ধর্মীয় দোহাই দিয়ে তাঁকে এভাবে হত্যা করার ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করছেন তাঁর ভক্ত ও অনুসারীরা।
পুলিশের পদক্ষেপ: দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ওসি স্পষ্ট করে বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মব কিলিং-এ জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।”
মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ: এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, বিচারবহির্ভূতভাবে একজন মানুষকে পিটিয়ে মারা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে মব জাস্টিসের এই সংস্কৃতি যদি প্রশ্রয় পায়, তবে দেশের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানের আড়ালে দেশ যদি প্রস্তর যুগে ফিরে যায়, তবে তার দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
