জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পার হলেও বিচারের বাণী আজও নিভৃতে কাঁদছে। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে সংঘটিত সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অগ্রগতি তো নেই-ই, বরং পিবিআই (পিবিআই) দাবি করছে তাদের কাছে মামলার প্রয়োজনীয় নথিই নেই! নিহতের পরিবার থানা থেকে আদালত—দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাচ্ছে না কোনো কূলকিনারা। শামীমের ভাই শাহীন আলমের আর্তনাদ যেন এক বিচারহীন রাষ্ট্রের প্রকাশ্য প্রদর্শনী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শামীম হত্যার সময় ক্ষমতায় থাকা ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম উদাসীনতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বই এই বিচারহীনতার মূল কারণ। বিদেশি অর্থায়ন ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মদতে ক্ষমতায় বসা সেই সরকারের আমলে বেছে বেছে কিছু মামলাকে গতি দেওয়া হলেও শামীম হত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ, এই হত্যার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের অনেকেই ইউনূস সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় নেতা।
শামীম হত্যা মামলার অভিযুক্তদের বর্তমান অবস্থান এই দাবির সত্যতা আরও জোরালো করে। মামলার আসামি আহসান লাবিব বর্তমানে জাকসু নির্বাচনে জয়লাভ করে বহাল তবিয়তে আছেন, আর হামিদুল্লাহ সালমান বাগিয়ে নিয়েছেন ছাত্রদলের হল সভাপতির পদ। অভিযুক্তদের এই রাজনৈতিক উত্থান স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, নির্দিষ্ট মহলের ছত্রছায়ায় থাকলে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও কোনো বাধা নয়। এক বছরের বেশি সময়েও পিবিআই কেন একটি মামলার নথি সংগ্রহ করতে পারল না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এটিকে কেবল প্রশাসনিক অদক্ষতা নয়, বরং ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ হিসেবেই দেখছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া সেই ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র ক্ষত এখনও শুকায়নি। শামীমের পরিবার আজও ন্যায়বিচারের আশায় পথ চেয়ে আছে। জনস্বাস্থ্য ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সরকার অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় আসে, তারা বিচারিক জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী হয় না। শামীম হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে থাকা সেই অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।
