যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের নজির অনুযায়ী—গুরুতর গাফিলতি বা প্রশাসনিক অবহেলায় মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং তা ‘ফৌজদারি অপরাধ’ বা ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’ (Negligent Homicide)। বর্তমানে বাংলাদেশে হামের সংক্রমণে ১৩৮ জন শিশুর করুণ মৃত্যুর মিছিল সেই আইনি সংজ্ঞাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা বলছেন, এই গণমৃত্যুর দায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এড়াতে পারেন না।
আইন কী বলে?
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া আচরণ বা চরম দায়িত্বহীনতার ফলে মৃত্যু ঘটলে তা হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। ২০২০ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশের হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান, চিকিৎসায় বা রাষ্ট্রীয় গাফিলতিতে মৃত্যু হলে তা ফৌজদারি অপরাধ। বিশ্বজুড়ে এমন অনেক নজির আছে যেখানে কেয়ার-গিভার বা কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে ‘মার্ডার’ বা ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে রায় দিয়েছেন আদালত।
ইউনূস সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত’ অবহেলা
বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দুই দশকে বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ১০ জন মারা গেলেও এবার সেই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩৮ জনে। ইপিআই (EPI) কর্মসূচির মাধ্যমে যেখানে ৮৪ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছিল, ড. ইউনূসের ১৬ মাসের শাসনামলে সেই চেইন ভেঙে পড়ে।
ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি অব মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা এলিমিনেশনের প্রধান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “গত বছর (২০২৫) হামের টিকা পর্যাপ্ত দেওয়া হয়নি, যা আমাদের বড় ক্ষতি করে দিয়েছে।” মূলত স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ে। অযোগ্যতা ও অদক্ষতার অভিযোগে তাঁকে সরানোর দাবি উঠলেও ড. ইউনূস তাতে কর্ণপাত করেননি। ফলে এই শিশুমৃত্যু এখন আর ‘প্রাকৃতিক’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্রীয় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বিচারের দাবিতে সোচ্চার জনতা
ইতিমধ্যে ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করা এখন সময়ের দাবি। আইনের দৃষ্টিতে যেহেতু প্রাথমিক অভিযোগ (শিশুমৃত্যুর পরিসংখ্যান ও টিকাদানে ব্যর্থতা) প্রমাণিত, তাই তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উঠছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
