দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ‘নীরব মহামারি’ হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মোট ১৩৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার জনে। এই গণমৃত্যুর জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনূস সরকারের ১৬ মাসের শাসনামলে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত থাকায় শিশুদের জীবন রক্ষাকারী হামের টিকা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল না।
গত দুই বছরে লক্ষ লক্ষ শিশু প্রয়োজনীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সেই পুঞ্জীভূত অবহেলার চড়া মাশুল এখন দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণের বিনিময়ে। বিশেষ করে প্রান্তিক জেলাগুলো ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
বর্তমানে দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ৯ হাজার শিশু এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম চললে আজ এই মরণপণ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। ইউনূস আমলের সেই টিকাদান ঘাটতি এখন ‘মৃত্যু’ হয়ে ফিরে আসছে। ৫৬টি জেলায় এই মহামারি ছড়িয়ে পড়লেও এর ভয়াবহতা লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এভাবে অরক্ষিত রেখে ক্ষমতা পরিচালনা করা ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সেই দেড় বছরের কাঠামোগত ক্ষত এখন শত শত পরিবারের বুক খালি করছে। জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও গণ-টিকাদান অভিযান শুরু না করলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
