২০০৭ সালের সেই আলোচিত এক-এগারো এবং ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তী সরকার দুই সময়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও কর্মকাণ্ডের ধরনে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের স্মৃতিচারণমূলক বই ‘শান্তির স্বপ্নে, সময়ের স্মৃতিচারণ’ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি ‘খণ্ডকালীন সময়ের জন্য’ রাজি হননি। তিনি চেয়েছিলেন আরও দীর্ঘ সময়। প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৪ সালে এসে কি তবে সেই ‘দীর্ঘ সময়ের’ অপূর্ণ খাহেশ মেটাতেই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছিলেন?
যে মিলগুলো আঁতকে ওঠার মতোঃ
নির্বাচনবিমুখতা ও সংস্কারের অজুহাত: ফখরুদ্দীন-মইন উর সরকার যেমন ‘আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন’ তত্ত্বে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল, ইউনূস সরকারও দায়িত্ব নিয়ে প্রথম আট মাস নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনাতেই আগ্রহী ছিল না। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার কেবল রাজনৈতিক চাপের মুখে নির্বাচনের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে।
বেসরকারি খাত ও অর্থনীতি ধ্বংসের নীল নকশা: এক-এগারোর সময় যেমন শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ‘দুর্নীতিবাজ’ তকমা দিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ইউনূস সরকারও তেমনি ‘মব বাহিনী’ লেলিয়ে দিয়ে হাজার হাজার কলকারখানা লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের সুযোগ করে দিয়েছে। বড় উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ‘অর্থ পাচারের মনগড়া গল্প’ সাজিয়ে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও ইমেজ ধূলিসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এই সরকারের বিরুদ্ধে।
বিরাজনীতিকরণ ও সুশীল এজেন্ডা: এক-এগারোর মতোই ইউনূস আমলেও দুটি নির্দিষ্ট সুশীল সংবাদপত্র সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন এবং বিরাজনীতিকরণের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া ছিল। সংবিধান সংস্কারের নামে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সুশীল সমাজের প্রেসক্রিপশন চাপিয়ে দেওয়ার এক ভয়াবহ প্রতারণা চালানো হয়েছে।
শিক্ষা ও সমাজ কাঠামোয় আঘাত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব সন্ত্রাস চালিয়ে শিক্ষক অপমান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইউনূস আমলে। এটি এক-এগারোর সেই শিক্ষা ধ্বংসের রাজনীতিরই আধুনিক সংস্করণ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এক-এগারো কেবল কয়েকজন ব্যক্তির উচ্চাভিলাষ ছিল না, এটি ছিল একটি বিরাজনীতিকরণ মতবাদ। আর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার সেই অসম্পূর্ণ কাজগুলোই সুচারুভাবে শেষ করতে চেয়েছিল। বিদেশি শক্তির ওপর ভর করে এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি তৈরি করে দেশকে একটি পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত করার যে ষড়যন্ত্র ইউনূস সরকার চালিয়েছে, তার বিচার হওয়া সময়ের দাবি। এখনই এদের সমূলে নির্মূল করা না গেলে, এরা ‘রক্তবীজের’ মতো বারবার গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
