দেশের রাজপথে এখনো আইনের শাসনের চেয়ে ‘মব’ বা গণপিটুনির তাণ্ডবই যেন শেষ কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্দ্বীপের গাছুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফের ওপর জুলাই মবের সাথে যুক্ত সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলা আবারও প্রমাণ করল যে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা
এখন তলানিতে। রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে দলবদ্ধভাবে একজনকে ঘিরে ধরে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যাওয়ার এই ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, “জুলাই মব”-এর তকমা লাগানো একদল সন্ত্রাসী আশরাফের ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা।
বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ৫ আগস্ট পরবর্তী ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ‘রাস্তার বিচার’ বা মব জাস্টিসের এক ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ।
মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে মব বা গণপিটুনির আড়ালে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যা পুরো আইনি কাঠামোকে ধসিয়ে দিচ্ছে।
যদি কোনো নাগরিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম করা হয় এবং হামলাকারীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পার পেয়ে যায়, তবে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অচিরেই ভয়াবহ রূপ নেবে। আজ আশরাফ হামলার শিকার হয়েছেন, কাল যে কেউ এই মব সন্ত্রাসের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নীরবতা ও জুলাই সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অবিলম্বে এই মব কালচার বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে দেশের কোনো নাগরিকই নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
